সাতক্ষীরায় শিশুকে হত্যা করে লাশ রাখলো আলমারিতে, অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার পর তার মরদেহ ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। পরে তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সোমবার (২০ জুলাই) দিনভর চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে। রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারজানা ইয়াসমিন (৯)। সে কাশিবাটি গ্রামের কৃষক ও ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে। শিশুটি ৪১ নম্বর কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। নিহত অভিযুক্ত নারী সুরাইয়া আক্তার একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য এমাদুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদের খোকন জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুরাইয়া বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ফারজানাকে আগে থেকেই ডেকে রাখা ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির কানের সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার পর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে মরদেহ ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়। দুপুর পর্যন্ত ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার বোনঝিকে সোনার দুলের জন্য হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল বলেন, স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে সুরাইয়া ফারজানাকে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে অবহিত করি। এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সুরাইয়া আক্তারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুটির হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নারীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে এবং তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments

Your Comment

Related stories

Subscribe For

Weekly Newsletter

Subscribe to stay up-to-date on all the latest news