ঈদের ছুটির পর সারা দেশে আবার লোডশেডিং শুরু হয়েছে। গ্রামের পর লোডশেডিং বেড়েছে শহরেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে। যদিও সরকার বলছে, দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বিভিন্ন জেলা উপজেলায় দীর্ঘসময় থাকছে না বিদ্যুৎ। সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈষম্য কমাতে এখন শহরেও দিনেরাতে কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, ঈদের ছুটিতে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহ দেশে তেমন কোনো লোডশেডিং ছিল না। কিন্তু ১ জুন থেকে আবার লোডশেডিং শুরু হয়। গতকালও বিকাল ৩টায় সারা দেশে ৩৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৯৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৬২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ঈদে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি যান বেসরকারি কর্মকর্তা ইকবাল হাসান। তিনি বলেন, সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেশ বিপদে পড়েছি। দিনেরাতে সাত থেকে আটবার লোডশেডিং হয়। গরমে বাচ্চাদের বেশ কষ্ট হয়। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মাঠের হাটে ঈদ করতে গিয়ে একই অবস্থার মধ্যে পড়েন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, দিনে এক ঘণ্টা পরপরই লোডশেডিং হয় এখানে। গুমোট গরমে এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও। ঈদের ছুটিতে সেখানে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা। ঈদের পর ঢাকায়ও অবস্থা অনেকটা সেরকম। ঢাকার মিরপুর পল্লবী এলাকায় ৪ এপ্রিল দিনেরাতে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হয়। রাতে বিদ্যুৎ গিয়ে ঘণ্টাখানেক পর আসে। একই অবস্থা ঢাকার অন্য এলাকাগুলোতেও। ঈদের ছুটির পরই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ঈদে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক কমে যায়। ফলে পরিকল্পিত লোডশেডিং হয়নি। তবে কালবৈশাখি ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হয়। যার ফলে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর আগে সরকার গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং বৈষম্য দূর করতে গ্রামের পাশাপাশি শহরেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
0 Comments
Your Comment