বিশিষ্ট নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন হারাল তার এক আলোকবর্তিকাকে। দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা অভিনেতা, নির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান ((ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বরেণ্য এই নাট্যজনের প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। তার প্রয়াণে দেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে, গত শুক্রবার নিজ বাসভবনে আকস্মিকভাবে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন আতাউর রহমান। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও আইসিইউর সংকটে পরে ধানমন্ডির হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। রবিবার পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার দুই দিনের মাথায় চিরবিদায় নিলেন মঞ্চের এই ক্লান্তিহীন সারথি। ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা আতাউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। মঞ্চনাটক, অভিনয়, নির্দেশনা এবং লেখালেখির মাধ্যমে তিনি এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন কয়েক দশক ধরে। তার সৃজনশীল মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তাকে। গুণী এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অভিনেতা রওনক হাসান বলেন, আতাউর রহমান ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা ও মঞ্চের এক সাহসী পথপ্রদর্শক। তার চলে যাওয়া অপূরণীয় এক ক্ষতি। আজীবন কর্মের মধ্য দিয়েই তিনি এ দেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

0 Comments

Your Comment

Related stories

Subscribe For

Weekly Newsletter

Subscribe to stay up-to-date on all the latest news