বিশ্বখ্যাত ক্যালভিন ক্লেইনের সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে ১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা ক্যালভিন ক্লেইন এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড। অন্তর্বাস, জিন্স, পোশাক, আনুষঙ্গিক পণ্য ও সুগন্ধিসহ নানা পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে ব্র্যান্ডটির বড় উপস্থিতি রয়েছে। ২০০৩ সালে ক্যালভিন ক্লেইনকে অধিগ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিভিএইচ করপোরেশন। বিশ্বজুড়ে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে ক্যালভিন ক্লেইনের বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। সেই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ বাংলাদেশও। পিভিএইচের ২০২৪ সালের করপোরেট দায়িত্বশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ছিল ৭৪টি সরবরাহকারী কারখানা। তবে এসব ৭৪টি কারখানাকে সরাসরি ক্যালভিন ক্লেইনের সরবরাহকারী বলা যাবে না। পিভিএইচের প্রধান দুটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ক্যালভিন ক্লেইন ও টমি হিলফিগার একই সরবরাহ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। তারপরও বাংলাদেশ যে পিভিএইচের দীর্ঘদিনের সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ, কোম্পানির তথ্যেই তার প্রমাণ রয়েছে। পিভিএইচের ২০২৫ সালের আয় ছিল ৮৯৫ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী প্রায় ২৮ হাজার। ৪০টির বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা কোম্পানিটির মোট রাজস্বের ৭০ শতাংশের বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে। ক্যালভিন ক্লেইনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ধরনের ক্রেতার চাহিদা পূরণে শুধু বেশি পরিমাণে পোশাক উৎপাদন করলেই হয় না। মান, পণ্যের বৈচিত্র্য, উন্নত কাপড় ও উপকরণ, বিশেষ ফিনিশিং এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের সক্ষমতাও প্রয়োজন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এরই মধ্যে ডেনিম, নিট, ওভেন, অন্তর্বাস ও স্পোর্টসওয়্যারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কারখানা ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। পিভিএইচের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৭৪টি কারখানায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত ৫ হাজার ৭১৪টি সমস্যা চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। বছরের শেষে এর ৯৩ শতাংশের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়। এখন বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ হলো উৎপাদনের পাশাপাশি দেশে আরও বেশি মূল্য সংযোজন করা। কাপড়, সুতা, রং, ফিনিশিং, নকশা ও পণ্য উন্নয়নের মতো ধাপগুলো দেশে বাড়ানো গেলে রফতানি আয়ের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে রাখা সম্ভব। ক্যালভিন ক্লেইনের মতো বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সরবরাহ নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থান তাই শুধু পোশাক রফতানির হিসাব নয়। এটি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরির সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে।

0 Comments

Your Comment