রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের সব রুটে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মোটর শ্রমিকরা। শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক ভণ্ডুল হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে মতবিরোধের জেরে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে বিকল্প পরিবহনের সন্ধানে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়ে যায়।
বৈঠক শেষে শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ফিরে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী থেকে চলাচলকারী সব রুটের বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা গন্তব্যের যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।”
0 Comments
Your Comment