স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বইছে নির্বাচনি হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই গণসংযোগে নেমে পড়েছেন এবং দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থন পেতে সরব হয়েছেন মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে। তবে কুমিল্লা ও যশোরে দলীয় সমর্থন পেতে জেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা গণসংযোগ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এ ক্ষেত্রে অনেকটা নির্ভার জামায়াত। সব ইউনিয়নে জামায়াতের একজন প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। অন্যদিকে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল এককভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে।
কুমিল্লায় বিএনপির একাধিক ও জামায়াতের একক : ১৮টি উপজেলার ১৯৩টি ইউনিয়নের গ্রামে বইছে ভোটের হাওয়া। ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তৃণমূল পর্যায়ের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ব্যক্তিগত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন দলের হাই কমান্ডের। অপর দিকে জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবে করতে চাইছে। তাদের দাবি জামায়াতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার বাবা এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। এদিকে আমি ফ্যাসিস্ট আমলে নির্বাচন করেছি, আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব, আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহজাহান বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ আমাকে দুবার নির্বাচিত করেছেন। অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে আমি নির্বাচন করব।’ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মু. শাহজাহান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আমরা এককভাবে করব। আমাদের একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
যশোরে মধুর সমস্যায় বিএনপি, জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার ৯৩টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলীয় সমর্থন পেতে জেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা গণসংযোগ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তবে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে বিএনপির ফলাফল খুবই খারাপ হয়েছে। ছয়টির মধ্যে মাত্র একটি আসনে জয় পায় দলটি। বাকি পাঁচটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হলে ইউপি নির্বাচনেও সমস্যা হতে পারে।
এদিকে কোন কোন বিষয় মাথায় রেখে ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই করা হবে সে ব্যাপারে দলের কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তার পরও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলার আট উপজেলাতেই প্রাথমিক বার্তা দিয়েছেন। এরপর কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আসলে সে অনুযায়ী প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।
Subscribe to stay up-to-date on all the latest news
0 Comments
Your Comment