ধনী-গরিব একসঙ্গে ইফতার

আসরের নামাজের পর থেকে নানা বয়সি মানুষের ভিড় বাড়ে। ইফতারের আগমুহূর্তে হাজারো রোজাদারের মিলনমেলায় পুরো মসজিদ হয়ে যায় পরিপূর্ণ। এর মধ্যে আছেন ধনী-গরিব থেকে ছিন্নমূল সব শ্রেণির মানুষ। সবাই এক কাতারে বসে আদবের সঙ্গে করেন ইফতার। এতে নেই কোনো হইচই, হুল্লোড়, হাঁকডাক। এ চিত্র একদিনের নয়, গত ২৫ বছর ধরে পুরো রমজান মাসে এমন আয়োজন করা হয় মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে। আয়োজকরা জানান, দিনদিন রোজাদারদের সংখ্যা বাড়ছে এ মসজিদে। জানা যায়, রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় হাজারো মানুষের জন্য এই ইফতার আয়োজন। রমজান শুরুর একদিন আগেই ৮-১০ জন বাবুর্চি ও সহকারী আড়াই-তিন হাজার রোজাদারের ইফতার রান্নার প্রক্রিয়া প্রস্তুতি শুরু করেন। ছোলা ভিজিয়ে রাখা হয় আগের দিন আসরের সময়। খেসারি ভিজানো, বেগুনির বেগুন, পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আদা, ধনেপাতা কাটার কাজ শুরু হয় ভোর থেকে। তারপর ভাজাপোড়ার কাজ চলে আসরের আজান পর্যন্ত। এর মধ্যে তৈরি হয়ে যায় থালা থালা ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ। আসরের পর রুহ আফজা শরবত তৈরি করা হয় বড় বড় ড্রামে। এর ফাঁকে শুরু হয় ইফতার পরিবেশনের প্রস্তুতিও। কাতারে কাতারে বসে থাকা মানুষের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় প্লাস্টিকের গ্লাস। কাতারের বাইরে ৫-১০ জনের থালাও পরিবেশন করা হয়। এসব থালা নিয়ে গোল হয়ে বসে পরম তৃপ্তিতে ইফতার সারেন রোজাদাররা। আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের খতিবের একান্ত সচিব হাসান মুরাদ বলেন, এ মসজিদের খতিব আওলাদে রাসুল ছাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানির উদ্যোগে ২০০১ সালে মক্কা মদিনার আদলে ছোট্ট পরিসরে ইফতার মাহফিল শুরু হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় এখন প্রথম রোজা থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার মুসল্লি, ১০ রোজার পর ৪-৫ হাজার মুসল্লি ইফতার করেন এখানে। তিনি আরও বলেন, ইফতার সামগ্রী যারা দান করেন তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তারা ইফতার উপকরণ পৌঁছে দেন। আমরা জমা রাখি এবং প্রতিদিন ১০ জন বাবুর্চি দিয়ে রান্না করে পরিবেশন করি। মুসল্লিদের পাশাপাশি অনেক নারী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অনেকে তবারক হিসেবে এ ইফতার নিয়ে যান। আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মোগল শাসকদের চট্টগ্রাম বিজয়ের ইতিহাস। মসজিদটি দিল্লি জামে মসজিদের আদলে বড় বড় পাথর ব্যবহার করে নির্মিত বলে পাথরের মসজিদ বা ‘জামে সঙ্গীণ’ও বলা হয় এটিকে। মসজিদের পশ্চিমের দেয়াল পোড়ামাটির ইটে তৈরি এবং বাকি তিনটি দেয়াল পাথরের তৈরি। মসজিদের ছাদে একটি বড় গম্বুজ ও দুটি ছোট গম্বুজ আছে।

0 Comments

Your Comment