এক মাদ্রাসায় টানা দুই বছর শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এর আগে ২০২৫ সালেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয় শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছিল।
অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ জন শিক্ষক। তাঁদের সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থী কম এবং ধারাবাহিকভাবে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসাটি থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একইভাবে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়। পরপর দুই বছর এমন ফলাফলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের দায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক পাঠদান এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী। এ ছাড়া ছাত্রীদের অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক না থাকায়ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীরা মূলত আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে আগেও শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল। তখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভাইস প্রিন্সিপালকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরও ফলাফলের এমন বিপর্যয় অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আবারও চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি আলিম মাদ্রাসায় সর্বনিম্ন ২০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ছয়জন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।