বন্ধুর জিপিএ-৫ নিয়ে সন্দেহ, গোপনে পুনর্নিরীক্ষণে এলো ‘ফেল’
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে সন্দেহ ছিল তার এক বন্ধুর। বন্ধুটি জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয় বলে মনে করতো সে। তাই বন্ধুর অজান্তেই তার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে ওই শিক্ষার্থী। পরে পুনর্নিরীক্ষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া বন্ধু আসলে ফেল করেছে। এ ঘটনায় নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি তদন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনা কোন বোর্ডে এবং কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঘটিয়েছেন, তা জানাননি শিক্ষামন্ত্রী। মামলার তদন্ত শেষে বিষয়টি প্রকাশ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবারের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার ১৯ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ লাখ পাস করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি এবার আইনত বললাম, যাদের যাদের প্রশ্ন আছে, তারা খাতা রি-এক্সামিন করতে পারে। ১২ লাখ পাস করেছে, ১৩ লাখ খাতা দেখার জন্য দরখাস্ত পড়েছে! বাকি ৬ লাখ করেনি। তা নাহলে ১৯ লাখ আবার দেখতে হতো!
তিনি বলেন, ‘এই যে আমি ১২ লাখ খাতা চেক করলাম, তার মধ্যে ৪৫ হাজারের জিপিএ চেঞ্জ হইলো, ৪৫ হাজার; নট ৪ হাজার ৫০০। এছাড়া ৫ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থী পাস করলো, ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ এ-প্লাস পেলো। কারণটা কী?’
খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের কেউ কেউ খাতা নিজেরা না দেখে অন্যদের দিয়ে দেখিয়েছেন। তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এরপর বন্ধুর অজান্তে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার ঘটনাটি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এক শিক্ষার্থীর বন্ধু জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু তার ধারণা ছিল, ওই বন্ধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন না থাকায় সে বন্ধুর পরিচয়ে তার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেয়। এখন দেখা গেল সেই বন্ধু ফেল করেছে। চিন্তা করতে পারেন? জিরোকে (শূন্য) বানিয়েছে ৮৫, ১৩-কে বানিয়েছে ৮৩, জিপিএ-৫ মানে এ-প্লাস। তার মানে কী? এটা কে করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজকে মামলা করে দিলাম। এটা বের করতে হবে আমাকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ৯ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী তাদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।