সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারানো ফাইজা আক্তার (১০) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। তবে সে এখনো জানে না তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর। গতকাল দুপুরে সংবাদকর্মীদের ফাইজা জানায়, নতুন জামা পরে তার বাবার সঙ্গে সে ঈদ মেলায় যাবে। সঙ্গে তার দুই বোনও থাকবে। ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে। জানা গেছে, রবিবার বিকাল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশের উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল ভোরে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে আসেন। ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির প্রয়াত সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেজো মেয়ে। ফাইজা টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ফাইজার মামা তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন মারা গেছে। সে জানে তার বাবা-মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। তিনি আরও জানান, নিহতদের লাশ এখনো জেদ্দা হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। দেশে লাশ আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রসঙ্গত, মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি প্রবাসী ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে সৌদিতে ওমরাহ করতে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সি মেয়ে সুবহা আক্তার মারা যান। দুর্ঘটনায় গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবরও (৩০) মারা যান। ওই দুর্ঘটনায় ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
0 Comments
Your Comment