ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ দাবির দরকষাকষির ভিডিও ভাইরাল

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবার বিনিময়ে টাকা দাবি ও দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. রাকিবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


অভিযোগকারী সবুজ মুসলমান জানান, ৮ অক্টোবর সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় অফিসসহায়ক পরিচয় দিয়ে রাকিব খতিয়ান খুঁজে দিতে সময় লাগবে জানিয়ে টাকা দাবি করেন। পরে সার্চিং ফি হিসেবে তাঁকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়। সবুজের অভিযোগ, খতিয়ানের কপি নিতে গেলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, এগুলো দেওয়া তাঁদের নিয়ম নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা হিসেবে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিতে বলেন। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। সবুজ জানান, পরে ১ হাজার টাকা দিলে রাকিব খতিয়ানগুলোর নথির ছবি তুলে পাশের একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে আনতে বলা হয় তাঁকে। পরে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টি খতিয়ানের মধ্যে ১৬টির কপি সংগ্রহ করেন। বাকি দুটি খতিয়ান নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বজলুর রহমানকে খতিয়ানের কপি দেওয়ার বিষয়ে বলতে শোনা যায়, ‘এটা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। এটা রেকর্ড রুম থেকে সহিমোহর আনতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝেমধ্যে দিয়ে থাকি।’ ভিডিওতে তাঁকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়ার কথা বলতেও শোনা যায়। পরে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। সবুজের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা চেয়েছি। তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।’ অভিযুক্ত বজলুর রহমানকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন বলেন, ‘সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0 Comments

Your Comment

Related stories

Subscribe For

Weekly Newsletter

Subscribe to stay up-to-date on all the latest news