সালিশ শেষে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় লামিয়া বৃষ্টি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে লামিয়া বৃষ্টির সঙ্গে রবিউল ছৈয়ালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে রবিউলকে মাদক সেবন ও বিক্রি থেকে বিরত থাকতে বলেন লামিয়া। অন্যথায় তাকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।
সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। সালিশ শেষে অন্যরা চলে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রবিউল লামিয়াকে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাকে খুঁজতে গিয়ে ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রায়ই তার মেয়েকে মারধর করতেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত সপ্তাহে রবিউলকে তালাক দেওয়ার কথা বলে মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। সোমবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সালিশ শেষে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই মেয়েকে গলা কেটে হত্যার খবর পান। তিনি মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পরপরই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক।