কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে কক্সবাজার থেকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, তাজমিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। হত্যাকাণ্ডের আগে তাজমিনের চলাফেরা ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রাজু। সেখানে তিনি ঘটনার রাতের বেশ কিছু তথ্য জানান।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে কুমিল্লা শহরে নিজেদের বাসায় ফিরে প্রধান ফটক বন্ধ দেখতে পায় তাজমিন। পরে মা-বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাকে জানায়। বাসায় প্রবেশ করতে না পেরে তাজমিন এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজু জানান, সকালে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা বলার পর তিনি তাজমিনকে ভিডিও কল করেন। এ সময় তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পেয়ে তিনি তাকে বকাঝকা করেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাজমিন ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
তার দাবি, পরে খুদে বার্তায় তাজমিন তাকে চিন্তা না করতে বলে এবং সকালে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানায়। এরপর রাজু জানতে চান, তাজমিন আসলে কাকে ফোন করেছিল। জবাবে সে এক বন্ধুকে ফোন করার কথা বলেছিল। তবে এখন তার মনে হচ্ছে, তাজমিন মূলত ওই সিএনজিচালকের কথাই বোঝাতে চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে ভোলারজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন হত্যাকাণ্ডে আগে তাজমিনের যাতায়াত, যোগাযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Subscribe to stay up-to-date on all the latest news
0 Comments
Your Comment