রাতে কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। পরদিন বর সেজে কনের বাড়িতে বরযাত্রী আসার কথা। এ উপলক্ষে প্যান্ডেল সাজানো, রান্নাবান্নাসহ সব আয়োজনও চলছিল পুরোদমে। কিন্তু আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় থমকে গেছে সব আয়োজন। গায়ে হলুদ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বর মাহিন।
শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুরে কনের বাড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। এতে বর মাহিনও অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় বেড়ির মাথা-মোল্লারহাট সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।
আজ রবিবার বরযাত্রা ও বৌ-ভাতের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে দুর্ঘটনার খবরে দুই পরিবারের আনন্দ পরিণত হয়েছে শোকে। কনের বাড়িতে দাওয়াতি রান্নার হাড়ি-পাতিল এলোমেলো পড়ে আছে। অতিথিদের বসানোর জন্য আনা চেয়ারগুলোও আর বিছানো হয়নি। খালি পড়ে আছে বরের বসার স্থান।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মাহিন রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অন্যদিকে কনে মিফতাহ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
নিহতের এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, গায়ে হলুদ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মাহিন মারা যান। তার বয়স কম ছিল। দুই দিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
কনের মামা জাহেদুন সোহেল বলেন, শনিবার রাতে তার ভাগনির গায়ে হলুদ ছিল। অনুষ্ঠানে বরও এসেছিলেন। রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। রোববার বৌ-ভাতের আয়োজন ছিল। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, বর ও কনের বয়স ১৪-১৫ বছর। বয়স কম হওয়ায় দুই দিন আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনে বরের বাড়িতে না গেলেও স্বামীকে হারিয়ে এখন বিধবা হয়েছেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। ঘটনার বিস্তারিতও তার জানা নেই।
0 Comments
Your Comment