টলিপাড়ায় শোকের খবর। ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওপার বাংলার বিনোদন জগতে। অভিনেতার এমন প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
এদিন আসলে ঠিক কী ঘটেছিল, অনেকের মনেই এখন এমন প্রশ্ন। জানা গেছে, রবিবার সকাল থেকে ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ নামে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে। শুটিং শেষে বিকেলের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। শুটিং ইউনিটের লোকজনের সামনেই সমুদ্রে তলিয়ে যান টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা।
সকাল থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল এবং তার সহকর্মীরা। বিকেলের দিকে শুটিং শেষ হয়। শুটিং ইউনিটের একটি সূত্রে খবর, তারপর একাই সমুদ্রে নামেন রাহুল। রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও ছিলেন ঘটনাস্থলে। তবে তিনি সৈকতেই দাঁড়িয়েছিলেন। পানির তলায় নাকি রাহুলের পা আটকে যায় বালিতে। আর তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। রাহুল সেই ঢেউ সামলাতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। বিপদ বুঝতে পেরে শ্বেতা ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করে সকলকে একজোট করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর কথায়, হয় ও সাঁতার জানত না, বা কোনোভাবে আটকে পড়েছিল। হঠাৎ টেকনিশিয়নরা চিৎকার করতে করতে বলেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’। যখন উদ্ধার করা হয়, তখনো বেঁচে ছিলেন রাহুল।
অন্যদিকে, রাহুলের গাড়িরচালক বলেন, রাহুলদা সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি বারবার বারণ করছিলাম। শোনেনি আমার কথা।
পানি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্রুত গাড়িতে তোলা হয় রাহুলকে। তালসারির সৈকত থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা জানান, আগেই মারা গিয়েছেন রাহুল।
0 Comments
Your Comment