নারায়ণগঞ্জে হত্যায় মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হোসিয়ারি শিল্পের শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা শোয়াইব রহমান সোহেবসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- বন্দর উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা শোয়াইব রহমান সোহেব (৪২)। তিনি বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে। অপর আসামি হলেন- বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার বশিরের ছেলে মো. সুমন (৩৮)। শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দর থানার সালেহনগর এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শোয়াইব রহমানের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আলমগীর হোসেন ওই সালিশ বৈঠকে আসতে দেরি করায় তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত ফরহাদসহ কয়েকজন। বৈঠকে আলমগীর ও তার ছেলে মুন্না মামলার আরেক আসামি মো. জুয়েলের কাছে পাওনা টাকা চান। কিন্তু জুয়েল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে আলমগীরকে মারধর শুরু করেন জুয়েল। পরে গ্যারেজের বাইরে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে আলমগীরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে তার মৃত্যু হয়। নিহত আলমগীর হোসেন বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে শোয়াইব রহমান সোহেবকে। এ ছাড়া এই মামলার ১০ নম্বর আসামি মো. সুমন। র‌্যাব জানায়, মামলার আসামিদের গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শোয়াইব রহমান ও তার সহযোগী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে তাদের বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

0 Comments

Your Comment