নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। স্থানীয় বাজারে তার একটি দোকান আছে এবং তিনি সেখানে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়াও, বিভিন্ন সময়ে তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, ঘটনাটি গত ১৩ সেপ্টেম্বরের। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গতরাতে বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা ও শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে গেলে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুটিকে বলাৎকার করেন তিনি। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ বোধ করলে শিশুটি পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এরপর তার বাবা থানায় মামলা করেন।
এ বিষয়ে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘২০২২ সাল পর্যন্ত আলমগীর জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান বলেন, ‘আলমগীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেগমগঞ্জ কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আলমগীরকে দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা ইসলাম রুমীর আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা শেষে বিকেলে একই আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।’
Subscribe to stay up-to-date on all the latest news
0 Comments
Your Comment