বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিকেলে বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে ওসি ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন। অভিযুক্ত তুর্য্য প্রিনাম বাড়ৈ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।
বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে হস্তান্তর করেছে। মামলার এজাহার পেলে বিস্তারিত বলা যাবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মো. মিরাজ বলেন, মঙ্গলবার ইফতারের পরে রাতে তার এক বান্ধবীর অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর কিছু ছবি ধারণ করে তুর্য্য। বিষয়টি ছাত্রী দেখতে পেয়ে ওর ফোন চেক করে। এ সময় তুর্য্যর ফোনে আরো অনেক মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া যায়। বিষয়টি প্রকাশ হলে অন্যান্য সহপাঠীরা এসে তুর্য্যর ফোনে আপত্তিকর ছবি দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম ও বিভাগের শিক্ষকদের খবর দেয়।
এদিকে বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর সাধারণ শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীরা পৃথক পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে তারা শিক্ষার্থী তুর্য্যর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, তুর্য্য দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠী ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি তার নিজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করেছে। তার ডিভাইস জব্দ করে সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, তুর্য্য এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, তুর্য্যর অ্যাকাডেমির সব ধরনের কার্যক্রম তার বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যৌননিপীড়ন-বিরোধী সেলকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিলে সেই অনুযায়ী প্রশাসন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, তুর্য্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। সে যে ছবি তুলেছে, সেগুলো অনলাইনে দিয়েছে কি না, কোন কোন গ্রুপের সঙ্গে যে যুক্ত আছে, এসব বিষয় তার খুঁজে বের করবে।
0 Comments
Your Comment