মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী হত্যায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ -৩ এর বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ভিকটিমের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামি মো. হৃদয় বেপারী ওরফে মো. হৃদয় মিঞা ওরফে হৃদয়ের স্বীকারোক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, আসামি অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে যায়। জুয়ার দেনা মেটাতে ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশে ঘটনার দিন বিকেলে আফরোজাকে একা পেয়ে নিজ হাতে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে সে। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন। তদন্ত শেষে ডিবি গুলশান জোনের সাব-ইনস্পেক্টর মো. রিপন উদ্দিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা চলাকালে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়েও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।এটি একটি ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধ।

0 Comments

Your Comment

Related stories

Subscribe For

Weekly Newsletter

Subscribe to stay up-to-date on all the latest news