দুই বন্ধু মিলে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কিশোরীকে (১৪) দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে কিশোরীর বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তুলে দূরের মাঠে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে রবিবার নাহিদুল ইসলাম নামে এক তরুণকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে স্থানীয়রা। নাহিদুল ইসলাম নাফিজ (২০) গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকির পাড়ার এলেম মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রবিবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক এলাকার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরী বিদ্যালয়ে আশা যাওয়ার পথে রায়হান শেখ (২০) নামের এক তরুণের সঙ্গে দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার (৯ মে) রাত দশটার দিকে কিশোরীকে ঘোরানোর কথা বলে প্রেমিক রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুল মোটরসাইকেলে কয়েক কিলোমিটার দূরে শহীদের দোকানের কাছে মাঠে নিয়ে যায়। এ সময় দুই বন্ধু মিলে জোরপূর্বক ক্ষেতের মধ্যে পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। রাত ১২টার দিকে কিশোরীকে এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার সময় রায়হান পালিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকজন নাহিদুলকে আটক করে। পরে এলাকার মাতুব্বর ফরিদ মুন্সীর বাড়িতে আটকে রেখে সকালে পুলিশকে খবর দেয়। কিশোরী জানায়, দুই মাস ধরে ছোটভাকলার শহীদের দোকান এলাকার কুদ্দুস শেখের ছেলে রায়হানের সাথে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে। শনিবার রাতে মোটরসাইকেলে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রায়হানের বাড়ির কাছে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায়। এ সময় তারা দুইজন মদ ও ওষুধ পান করে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১২টার দিকে আমার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে আসলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন নাফিজকে আটক করে। আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। আটক নাহিদুল ইসলাম জানায়, বন্ধু রায়হান তার প্রেমিকাকে আমার মোটরসাইকেলে ঘুরতে এলাকায় নিয়ে এসে ধর্ষণ করে। এরপর আমাকে ডাক দিলে আমিও ধর্ষণের চেষ্টা করি তবে ধর্ষণ করিনি। তিনি আরও জানায়, ফরিদপুর থেকে সন্ধ্যার পর দুই বন্ধু মদ এনে সেটা আমি খাই তারপর মেযেটিকে ডেকে আনি। গোয়ালন্দঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ এক তরুণকে আটক করে রবিবার সকালে পুলিশকে জানালে তাদেরকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুলকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। আটককৃত তরুণকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

0 Comments

Your Comment

Related stories

Subscribe For

Weekly Newsletter

Subscribe to stay up-to-date on all the latest news