ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার যুবক জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৫) নিহত হয়েছেন। গত ১৮ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। পরিবারের দাবি, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি এজেন্সি তাকে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করে। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিহত হন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন নিহত ও একজন আহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন কুমিল্লার ইউসুফ খান ও মাদারীপুরের সুরুজ কাজী। জাহাঙ্গীরের স্বজনরা জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে চাকরির আশ্বাসে তাকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। প্রথমে একটি পিগ ফার্মে কাজ করানো হলেও পরে তাকে ও আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাস প্রশিক্ষণের পর তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। তিন ভাইবোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। দুই বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেন তিনি। স্ত্রী ও দুই বছর বয়সি এক সন্তান রেখে গেছেন তিনি। করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল কবির বলেন, আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য না পেলেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লেখ্য, গত ২ মে একই সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় করিমগঞ্জের আরেক যুবক রিয়াদ রশিদ (২৮) নিহত হন।
0 Comments
Your Comment