সন্তান বিক্রির অর্থে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক

পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মুন্সিকে আটক করে দশমিনা থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন-এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। এরপর বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে মারুফ স্বীকার করেন, তিনি ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।​ সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে মারুফ দ্রুত ঢাকায় চলে যান এবং পুরোনো ফোন বদলে একটি নতুন আইফোন কেনেন। এদিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবা মারুফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইমরানকে থানায় ডেকে এনে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে ইমরান স্বীকার করেন, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। রাত ১০টার দিকে ইমরানের শ্বশুর মাহাবুব গাজী শিশু মুসাকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে দশমিনা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

0 Comments

Your Comment

Related stories

Subscribe For

Weekly Newsletter

Subscribe to stay up-to-date on all the latest news