রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাস আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সীমান্ত চন্দ্র দাস নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি এ মামলায় গ্রেফতার প্রধান দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নত আলী বলেন, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাক্ষী সীমান্তের জবানবন্দির মিল রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা সীমান্তের বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করেছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তও আদালতে একই তথ্য জানিয়েছেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এর আগে, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই আসামি সীমান্তের বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করেছিল।
এদিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানের এক কর্মীর ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে আপাতত ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নত আলী বলেন, শ্মশানকর্মীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মামলার বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে, প্রীতিলতার মরদেহ সিঁড়িতে, মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে এবং ছেলে প্রিয়মের মরদেহ দোতলার শোয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন রবিবার ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে ও নগরীর সিটি বাজারের মাছের দোকানের কর্মচারী মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেফতার করে পুলিশ।
0 Comments
Your Comment